শুধু সাম্প্রদায়িকতার লেন্সে বাংলাদেশ

ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও চিকেন নেকে পিঁপড়া মারতে ট্যাংক

বাংলাদেশে মার্কিন রঙিন বিপ্লব এবং ২০২৪ এর জুলাই দাঙ্গার বিষয়ে শুরু থেকেই আমি বলে আসছি ভারতের অন্ধত্বের কথা। ২০০১ সাল থেকে মার্কিন বিশেষ অপারেশন ফোর্সের বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নরম যুদ্ধকে তারা অবজ্ঞা করেছে। মার্কিন এই যুদ্ধে যে পাকিস্তান একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং পাকিস্তানের আইএসআই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে যে ক্রমেই পরিবর্তিত করছে একটি ভারতবিদ্বেষী ইসলামী বরাহবাহিনী হিসাবে এটা নিয়েও ভারত ছিল নির্বিকার। 

২০০১ এর বিএসএফ হত্যা এবং ২০০৯ এর বিডিআর হত্যাকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেও ভারত বোঝেনি যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নয়, পাকিস্তানের মত গণতন্ত্র হত্যার প্রচেষ্টা চলছে। ২০১৩-১৫ এর জ্বালাও-পোড়াও এবং হোলি আর্টিজন হত্যাকাণ্ড দেখেও ভারত ভাবেনি যে এইসব ঘটনার মাধ্যমে আসলে ক্ষমতায় থাকা লিবারেল ও ডেমোক্র্যাটিক সরকারকে পরিকল্পিত উপায়ে ব্রুটালাইজ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের এই সব ঘটনাই যে ভারতকে উদ্দেশ্য করে সেটা ভারতের দেখেও না দেখা বিস্ময়কর। 

পুরো বিষয়গুলোকে তারা সাম্প্রদায়িকতার লেন্স দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেছে। পুরো বিষয়ের জটিলতা অনুধাবন না করে তারা বাইরে থেকে দেখা মৌলবাদী পোশাক ও বাংলাদেশীদের ইসলামী মৌলবাদী আচরণ দেখেছে। এখানে মৌলবাদ যে রাষ্ট্র দখলের একটি মার্কিন ডিপ স্টেট অস্ত্র মাত্র, সেটা দেখেনি। উল্টো শান্তি, গণতন্ত্র এবং শান্তিপূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া যার মনে সেই নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দল শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগকে সন্দেহের চোখে দেখেছে এবং বিমাতাসুলভ আচরণ ক্রমেই বেড়েছে। 

ফল যা হবার তাই হয়েছে। বাংলাদেশ পরাস্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক শক্তি এবং পাকিস্তানের চক্রান্তের কাছে। ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ভারতের পেটের ভেতরে অবস্থিত একটি দেশের এই পরাজয়ের পর বিষয়টিকে যতটা গুরুত্বের সাথে তাদের নেওয়া উচিত ছিল তারা সেটা নেয়নি। কারণ সেই একই, এত পরিষ্কার মার্কিন রেজিম চেঞ্জকেও সাম্প্রদায়িকতার লেন্স দিয়ে পর্যবেক্ষণ। 

শুধু সাম্প্রদায়িকতার লেন্স দিয়ে পর্যবেক্ষণ নয়, এর সাথে ছিল বিষয়টাকে শক্তি বা সামরিকতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা। আমি বার বার যে বিষয়টি উল্লেখ করেছি সেটা হল গত দুই মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকারের যে দুর্বলতা ছিল, যেটা হল মন্ত্রিসভায় কোন রাজনীতিবিদ নেই। আছে রাজনীতিতে মূর্খ প্রতিক্রিয়াশীলদের একটি মব। আর আছে শক্তিশালী ফোর্স। সরকার যেন একটি রাজনৈতিক যন্ত্র নয়, একটি বুলডোজার। ভারতের সরকারও যেন তেমনই, হয়ত বুলডোজার নয়, তারা যেন একটি ট্যাংক। চিকেন নেকে পিপড়া মারতে তাদের কর্মকান্ড যেন সেটাই প্রমাণ করে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যত খতম। অবৈধ মার্কিন তাবেদার সরকার যতই খোয়াব দেখাক আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে আমেরিকান সামরিক উপস্থিতি ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনার খোয়াব দেখিয়ে, সেই স্বপ্ন কখনও বাস্তবে রূপ নেবে না। কারণ বাংলাদেশের সমাজ, মানসিকতা ও পরিবেশ মার্কিন বা আন্তর্জাতিক ব্যবসার জন্য উপযুক্ত নয়। মিয়ানমারের প্রচেষ্টার মতই সেটা ব্যর্থ হবে। সুতরাং বাংলাদেশের ভবিষ্যত আরো দারিদ্র, দুর্ভিক্ষ এবং অরাজকতা। 

সেই বাংলাদেশ ভারতের কেমন প্রতিবেশী হবে? ২০২৪ এর জুলাই ঘটনার আগে ভারতের হাতে অনেক সুযোগ ছিল, তারা বৈরিতা করেছে হাসিনা সরকারের সাথে। ২০২৪ এর ৫ অগাস্টের পরে অনেক সুযোগ ছিল কৌশল প্রয়োগে আরো সাহসী ও কঠোর হবার। হতে পারল না তারা। এখন ১২ ফ্রেব্রুয়ারির পরে কি হবে সেটা নিয়ে কি ভাবছে তারা? কাগুজে নির্বাচনে জেতা জামাত বিএনপি সরকার তাদের জন্য কি হবে সেটা কি তারা ভুলে গেছে?

আগের জামাত বিএনপি সরকার আর ভবিষ্যতের জামাত বিএনপি সরকার এক হবে না। এর কারণ বাংলাদেশ শয়তানের রাজনীতি বা স্যাটানিক কাবালে প্রবেশ করেছে। যেখানে উচ্চপদস্থ কেউ সত্য বলে না, কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। কেউ কোন দায়িত্ব নেয় না এবং প্রত্যেকে ধুরন্ধর দুর্নীতিবাজ এবং ছলনাকারী। যারা লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী হলেও নিজেদের ঈশ্বরের খাস বান্দা ভাবে। যেমন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা বাংলাদেশের জামায়েতে ইসলামীর সদস্যরা। এরা সাক্ষাৎ শয়তান।

সেই শয়তানেরা এখন আনবাউন্ড হবে। বাংলাদেশের সংবিধান দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রকে যে নিরাপত্তা দিয়েছিল, সেটা থাকবে না। আগে বাংলাদেশের ইসলামী সন্ত্রাসবাদী ছিল, এখন রাষ্ট্রই হবে সন্ত্রাসবাদী। বাংলাদেশকে এই ইসলামী সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার কারিগর পরিষ্কারভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। 

তাদেরই প্রক্সি সামরিক ঘাটি হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এবার শুধু ১০ ট্রাক অস্ত্র পাঠানোতে তারা থেমে থাকবে না। ভারত কি প্রস্তুত? 

© সিরাজুল হোসেন