EN
আরও পড়ুন
রাজনীতি
শুধু সাম্প্রদায়িকতার লেন্সে বাংলাদেশ
রাজনীতি
ভেনেজুয়েলার তেল যেন চীন রাশিয়া ব্যবহার করতে না পারে সেটাই আসল লক্ষ্য
রাজনীতি
জেনারেল মারকানো টাবাটা পদচ্যুত ও গ্রেপ্তার
রাজনীতি
ভেনেজুয়েলা: ট্রাম্পের লোভ বা পাগলামি নয়
রাজনীতি
সন্ত্রাসবাদের "দুই পিরামিড" ফ্রেমওয়ার্ক এবং র‍্যাডিকালাইজেশনের নিউরোসায়েন্স
JadeWits Technologies Limited
রাজনীতি

দেখেও না দেখা “আইজ ওয়াইড শাট”

এপিস্টিন ক্লাব: প্রাকৃতিক বিশ্ব ও বাস্তবতার নিয়ম ফেলে শয়তানের স্বাধীনতা

এপিস্টিন ফাইল নিয়ে সর্বত্র আলোচনা চলছে। এই ফাইলের ইমেইলে নাম থাকলেই সেটা নিয়ে নাচানাচি হচ্ছে। ইমেইলে নাম থাকা নয়, এপিস্টিনের ক্লাব বা নেটওয়ার্কে কারা ছিল, এবং তারা কিভাবে নিজেদের জন্য সকল আইন ও প্রথার লঙ্ঘন এবং অন্যদের সকল মানবিক অধিকার অস্বীকারের যে সংস্কৃতি ও ক্ষমতার চর্চা প্রতিষ্ঠিত করেছে সেটা গুরুত্বপূর্ন। জালিয়াত ইউনুসের এপিস্টিন ফাইলসে কতবার নাম থাকল সেটা নয়, বাংলাদেশের যে ২০২৪ এর সরকার পরিবর্তন, সেটা যে এপিস্টিন ক্লাবের দর্শনেরই প্রয়োগ, সেটা বুঝতে পারা গুরুত্বপূর্ণ। সেই দর্শন হচ্ছে দাভোস ও মার্কিন ডিপ স্টেটর অনুচর একটি গোষ্ঠি বাংলাদেশে সকল ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হবে। এবং বাংলাদেশের বাকি জনগণ থাকবে দাস বা রাজনৈতিক ক্ষমতাবিচ্ছিন্ন কর্মী হিসাবে।  
 
বাইরে গনতন্ত্রের লেবাস কিন্তু ভেতরে নিম্নস্তরে একটি মিলিশিয়া শাসিত দাসতন্ত্র ও উপরে এলিট এপিস্টিন ক্লাব - এটিই যে মার্কিন গণতন্ত্র। স্ট্যানলি কুবরিক ১৯৯৯ সালে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা “আইজ ওয়াইড শাট” সিনোমাটির কথা যেটি আসলে সুখে থেকেও অসুখী মানুষ এবং তাদের এপিস্টিন ক্লাবের সদস্য হবার চেষ্টার গল্প। সিনেমাটি আর্থার স্নিটজলার “ট্রামনোভেল” এই উপন্যাসটিকে ভিত্তি করেই তৈরি। 

বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগের শাসন ও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব নিয়ে ভাল থাকা ভাল খাওয়া শহরবাসী এবং প্রবাসীরা হঠাৎ এত বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল কেন? গত ১৫ বছরের আট বছরই আমরা যারা রাজনৈতিক ভাষ্য ও বিশ্লেষণ করে থাকি তারা সরকার ও বিশেষ করে সিভিল প্রশাসনের ক্রমেই সামরিকায়ন নিয়ে সমালোচনা করেছি। সেই সময়ে অনেকেই যারা শেখ হাসিনার ভক্ত ছিলেন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও জীবন মানের উন্নয়নের সমর্থক ছিলেন তারা অনেকেই আমাকে ক্রূর দৃষ্টিতে দেখেছেন। মূল কথা হচ্ছে জামাত, শিবির, বিএনপি এবং ইসলামী সন্ত্রাসবাদীদের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ছাড়া বাকি সবার ক্ষেত্রে যে সরকার গণহারে দমন নিপীড়ন করেছে, বাক স্বাধীনতা হরন করেছে তেমনটা নয়। মার্কিন চাপে বিচারবহির্ভূত হত্যা যথেষ্ট কমে এসেছিল এবং মিডিয়াও ছিল তুলনামূলক স্বাধীন। তবে প্রকটভাবে ছিল মিডিয়ার নিজে থেকেই সেল্ফ সেন্সরশিপ যাতে হাসিনা সরকারের স্নেহপুষ্ট হওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে কেন এত মানুষ সামান্য উস্কানিতে নিজেদের ভবিষ্যত না ভেবে ভয়ংকর ও অনিশ্চয়তার একটি পথ বেছে নিল যার ফলে তারা যা চেয়েছিল সেগুলো তিন মাসেই দশ গুণ মন্দ হয়ে গেল?
 
১৯ শতকের শেষের দিকে পশ্চিম ইউরোপকে কেন্দ্র করে ডিক্যাডেন্স মুভমেন্ট বা পতনশীল আন্দোলন নামে একটি চর্চা শুরু হয় যা অতিরিক্ত এবং কৃত্রিমতার একটি নান্দনিক আদর্শ অনুসরণ করেছিল। এই আন্দোলন প্রথমে ফ্রান্সে বিকাশ লাভ করে এবং তারপর সমগ্র ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনটি ছিল প্রাকৃতিক বিশ্ব ও বাস্তবতার চেয়ে মানুষের কল্পনা শ্রেষ্ঠতর এই ভাবধারার। ল্যাটিন পণ্ডিত নিশার্ড (Désiré Nisard) ফরাসি সাহিত্যের দিকে ঝুঁকেছিলেন, তখন তিনি সাধারণভাবে ভিক্টর হুগো এবং রোমান্টিসিজমকে রোমান অবক্ষয়ের সাথে তুলনা করেছিলেন, যেখানে পুরুষরা আনন্দের জন্য তাদের নৈপুণ্য এবং তাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে পরিত্যাগ করে। তিনি যে প্রবণতাগুলি চিহ্নিত করেছিলেন, যেমন বর্ণনায় আগ্রহ, সাহিত্য ও শিল্পের প্রচলিত নিয়ম মেনে চলার অভাব এবং অসংযত ভাষার প্রতি ভালবাসা, ছিল পতনশীল আন্দোলনের বীজ।
 
প্রাকৃতিক বিশ্ব ও বাস্তবতায় আমরা কখনই পুরোপুরি স্বাধীন ও তৃপ্ত নই। প্রেম যেমন আমাদের অপার আনন্দ ও আত্মিক সংযোগ দেয় এটা তেমনই আমাদের উদ্বেগ, বিষাদ ও দায়ীত্বের শেকলে বাঁধে। বিয়ে বা লিভ টুগেদার যেমন আমাদের যৌথ জীবন ও যৌন সঙ্গীর সাথে বসবাস ও পরিবার গঠনের সুযোগ দেয়, তেমনই সেটা নানা সামাজিক নিয়ম নীতি ও আইন কানুনে সমর্পণ করে। প্রাকৃতিক বিশ্ব ও বাস্তবতার এটাই নিয়ম। 

কিন্তু কখনও কখনও সমাজে ও গণমানসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যে মানুষ প্রাকৃতিক বিশ্ব ও বাস্তবতার সেই প্রতি-চাহিদাগুলোকে সহ্য করতে পারছে না। আমরা প্রেম করতে চাই, কিন্তু কোন দুঃখ বা বিষাদ অসহ্য, দায়িত্ব নিতেই চাই না। বিয়ে চাই কিন্তু নিজের ইচ্ছা মত স্বাধীনতা সহকারে। সরকার চাই, শক্তিশালী রাষ্ট্র চাই, রাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তা চাই কিন্তু নিজের স্বাধীনতায় সামান্যতম ছাড়ও দিতে চাই না।

এই চাওয়া না পাওয়ার পর যখন আমরা দেখি যে অন্য কেউ সেই স্বাধীনতা ভোগ করছে, বিশেষ ক্ষেত্রে হলেও বা কল্পনাতে হলেও, তখন আমরা ঈর্ষান্বিত হয়ে যাই। সেই ঈর্ষা থেকে আমরা লোভে পড়ে যাই শতভাগ স্বাধীন এক জীবনের। আমরা তখন ভুলে যাই যে শতভাগ স্বাধীন সেই দুনিয়া আসলে অরাজকতার দুনিয়া যেটা মূল্যবোধ শূন্য এবং যেখানে শুধুই শয়তানদের বসবাস।

জার্মান ডাক্তার এবং সামাজিক সমালোচক ম্যাক্স নর্ডাউ ‘অবক্ষয়’ (১৮৯২) নামে একটি দীর্ঘ বই লিখেছেন । অধঃপতনকে বা পতনশীলতাকে একটি প্রবণতা হিসাবে তিনি সেটাতে পরীক্ষা করেছেন। বিশেষভাবে পতনশীল আন্দোলনের সাথে জড়িত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে, সেইসাথে সারা বিশ্বের অন্যান্য ব্যক্তিত্বের তিনি সমালোচনা করেছেন যারা সাংস্কৃতিক, নৈতিক বা রাজনৈতিক নিয়ম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন বা সেগুলো অবজ্ঞা করেছিলেন। বইটিকে যা সফল করেছে তা হল "অবক্ষয়" এর একটি চিকিৎসা নির্ণয়ের পরামর্শ, তিনি দেখিয়েছেন এটি একটি নিউরো-প্যাথলজি যার ফলে এই আচরণগুলো প্রকাশ পায়।

অস্ট্রিয়ান লেখক লেখক আর্থার স্নিটজলার ১৯২৬ সালে জার্মান ভাষায় “ট্রামনোভেল” নামে একটি উপন্যাস লেখেন যেটি র‌্যাপসোডি: একটি স্বপ্নের উপন্যাস বা ড্রিম স্টোরি নামেও পরিচিত। ড্রিম স্টোরির গল্পটি ২০ শতকের প্রথম দিকে ভিয়েনায় একটি খ্রিস্টান কার্নিভ্যাল মারডি গ্রাসের সময় শুরু হয়েছে । গল্পের নায়ক ফ্রিডোলিন, একজন সফল ৩৫ বছর বয়সী ডাক্তার যিনি তার স্ত্রী আলবার্টিনা এবং তাদের অল্পবয়সী মেয়ের সাথে একটি সচ্ছল সুখী পরিবার গঠন করেছিলেন বলেই মনে হয়।

একদিন এক রাতে, কথা কথায় অ্যালবার্টিনা বলে যে, সে গত গ্রীষ্মে, যখন তারা ডেনমার্কে ছুটিতে ছিল, তখন সে একজন তরুণ ডেনিশ সামরিক অফিসারকে নিয়ে যৌন কল্পনা করেছিল। তারপরে ডঃ ফ্রিডোলিন স্বীকার করে যে একই ছুটিতে সে নিজেও সমুদ্র সৈকতে একটি অল্পবয়সী মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পরে সেই রাতে, ডঃ ফ্রিডোলিন একজন গুরুত্বপূর্ণ রোগীর চিকিৎসায় হাউজ কলে যায় যে রোগী মৃত্যুশয্যায় ছিল। যাবার পর ডঃ ফ্রিডোলিন দেখে রোগীটি এর মধ্যেই মারা গেছে। সে হতবাক হয়ে যায় যখন সেখানেই মৃত লোকটির মেয়ে মারিয়ান তাকে প্রেমের আহ্বানে প্রলুব্ধ করতে চায় ও একত্র হবার ইঙ্গিত দেয়। এতে হতভম্ব ও অস্থির হয়ে ডঃ ফ্রিডোলিন সেখান থেকে দ্রুত চলে আসে এবং একা একা রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে। হতভম্ব ও অস্থির ডঃ ফ্রিডোলিন রাস্তায় মিজি নামে এক তরুণী দেহজীবির সম্মুখীন হয়। যৌন প্রলুব্ধ হয়ে তার সাথে গেলেও মিজির যৌন প্রস্তাব পরিশেষে সে প্রত্যাখ্যান করে এবং আবার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

এসময় সে তার এক পুরানো বন্ধু নাচটিগালের সাথে দেখা হয়। নাচটিগাল ডঃ ফ্রিডোলিনকে বলে যে সে সেই রাতে একটি হাই-সোসাইটি গোপন মুক্ত যৌনতার পার্টিতে পিয়ানো বাজাবে এবং সেই পার্টিতে কি কি হয় তার গল্প বলে। কৌতূহলী ডঃ ফ্রিডোলিন একটি মুখোশ এবং বিশেষ পোশাক সংগ্রহ করে এবং ধনী ও ক্ষমতাশালীদের এলাকার একটি ব্যক্তিগত বাসভবনের পার্টিতে নাচটিগালকে অনুসরণ করে ঢুকে পড়ে। ডঃ ফ্রিডোলিন সেখানে মুখোশ এবং জোব্বা পরিহিত পুরুষদের দেখে হতবাক হয় যাদের সাথে শুধু মুখোশ পরা নগ্ন মহিলারা বিভিন্ন কায়দায় মুক্তভাবে যৌন কার্যকলাপে নিয়োজিত। তখনই একজন যুবতী মহিলা তাকে চিনে ফেলে এবং তাকে চলে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে। ডঃ ফ্রিডোলিন তার আবেদন উপেক্ষা করে এবং শীঘ্রই একজন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা ইন্টারলোপার হিসাবে ধরা পড়ে যায়। ঐ সোসাইটির নিয়ম হল এমন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কঠোর শাস্তি হবে। উক্ত যুবতী মহিলা তখন ঘোষণা করে যে সে ফ্রিডোলিনের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবে এবং তখন গোপনীয়তার শর্তে ডঃ ফ্রিডোলিনকে চলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

সেই রাতে বাড়ি ফেরার পর, আলবার্টিনা জেগে ওঠে এবং সে তার সদ্য দেখা একটি স্বপ্নের বর্ণনা দেয়। আলবার্টিনা বলে তার যৌন কল্পনা থেকে স্বপ্নে ডেনিশ অফিসারের সাথে প্রেম করার সময়, সে দেখেছিল যে ডঃ ফ্রিডোলিনকে তার চোখের সামনে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হচ্ছিল কিন্তু তার জন্য তার সে কোন সহানুভূতি অনুভব করেনি। এতে ডঃ ফ্রিডোলিন ক্ষুব্ধ হয় কারণ তার মনে হয় যে, এই স্বপ্ন এটি প্রমাণ করে যে তার স্ত্রী তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চায় এবং ক্ষুব্ধ হয়ে সে তার নিজের যৌন প্রলোভন অনুসরণ করার সংকল্প করে।

পরের দিন, ডঃ ফ্রিডোলিন জানতে পারে যে নাচটিগালকে দুজন রহস্যময় লোক তুলে নিয়ে গেছে। তারপর সে তার মুখোশ ও পোশাক ফেরত দিতে পোশাকের দোকানে যায় এবং আবিষ্কার করে যে দোকানের মালিক তার কিশোরী মেয়েকে বিভিন্ন পুরুষের কাছে পতিতাবৃত্তি করায়। আগের রাতে যেখানে মুক্ত যৌনতার পার্টি হয়েছিল সেখানে সে আবার যায়। সে সেখানে প্রবেশ করার আগেই তাকে তার নামে সম্বোধন করা একটি নোট হস্তান্তর করা হয় যা তাকে সতর্ক করে আগের রাতের বিষয়টি অনুসরণ না করার জন্য। পরে সে তার মৃত রোগীর কন্যা মারিয়ানের সাথে দেখা করে, কিন্তু সে আর তার প্রতি কোন আগ্রহ প্রকাশ করে না। ডঃ ফ্রিডোলিন তখন দেহজীবি মিজিকেও খোঁজে, কিন্তু তাকে খুঁজে পায় না। পরে সে পত্রিকায় পড়ে যে শহরে এক যুবতীকে বিষ দেওয়া হয়েছে।  সন্দেহ করে যে এটা সেই মহিলা যে তার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিল।  ডঃ ফ্রিডোলিন মর্গে মহিলার মৃতদেহ দেখতে যায় কিন্তু তাকে সনাক্ত করতে পারে না।

ডঃ ফ্রিডোলিন সেই রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রী আলবার্টিনাকে ঘুমানো অবস্থায় দেখতে পায়, এবং দেখে যে আগের রাতের মুখোশটি আলবার্টিনা বিছানায় পাশের বালিশে রেখে ঘুমিয়েছিল। সেই ভোরে জেগে উঠে ডঃ ফ্রিডোলিন গত দু'দিনের তার সমস্ত কার্যকলাপ আলবার্টিনার কাছে স্বীকার করে। চুপচাপ শোনার পর আলবার্টিনা তাকে সান্ত্বনা দেয়। ডঃ ফ্রিডোলিন বলে যে এটি আর কখনও ঘটবে না, কিন্তু আলবার্টিনা তাকে ভবিষ্যতের দিকে খুব বেশি দূরে না তাকাতে বলে, এবং বলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা তাদের দুঃসাহসিক কাজের বিপদ থেকে বেঁচে গিয়েছে। তাদের মেয়েকে নতুন দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে গল্প শেষ হয়।

উপরের আর্থার স্নিটজলার “ট্রামনোভেল” এই উপন্যাসটিকে ভিত্তি করেই স্ট্যানলি কুব্রিক ১৯৯৯ সালে সাইকোলজিক্যাল ড্রামা “আইজ ওয়াইড শাট” সিনোমাটি তৈরি করেন। যে ছবিতেও ডঃ বিল হারফোর্ড (টম ক্রুজ) এবং তার স্ত্রী অ্যালিস (নিকোল কিডম্যান) তাদের একটি কন্যা নিয়ে একটি সুখী সচ্ছল পরিবার। অ্যালিসের অন্য পুরুষ নিয়ে যৌন কল্পনা এবং সেটা নিয়ে স্বপ্ন ডঃ বিলকে ঈর্ষান্বিত ও ধাবিত করে অপ্রাকৃতিক ও অবাস্তব মুক্ত যৌনতার জগত খুঁজতে। ডঃ বিল সেটা খুঁজে পায়ও কিন্তু সে দেখে সেখানে যেমন যৌন ট্যাবু ও নিয়ম কানুন নেই, সেখানে মানুষ খুনের ট্যাবু ও নিয়ম কানুনও নেই। যেটা ভয়ংকর শয়তানের জগত যেখানে সাধারণ সামাজিক মানুষ বাস করতে পারে না। 

আদর্শ গণতন্ত্র এবং আদর্শ সরকারের কল্পনায় আমরা ডঃ ফ্রিডোলিন বা ডঃ বিল হারফোর্ডের মতই প্রাকৃতিক ও বাস্তবতার সরকারকে ফেলে দিয়ে কল্পনার শয়তানের সরকারের হাতে দেশ তুলে দিয়েছি। আমরা ফিরে যেতে পারব কি?

© সিরাজুল হোসেন, ২০২৪

JadeWits Technologies Limited
সর্বশেষপঠিতনির্বাচিত

আমরা আমাদের সেবা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করি। আমাদের কুকি নীতির শর্তাবলী জানার জন্য অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন। কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মত হলে, 'সম্মতি দিন' বাটনে ক্লিক করুন।