অন্তর্বাস পরা এই ব্যক্তিটি বৃটেনের লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। যাকে দেখা গেছে এপস্টিনের বাড়িতে এবং পার্টিতে। এপস্টিন নিয়ে ডিপ স্টেট পত্রিকাগুলো শিশু পাচার এবং শিশু যৌন ব্যবসা নিয়ে একে অপরপক্ষের নেতাদের চরিত্রহননে ব্যস্ত ইচ্ছা করেই, যাতে এপস্টিনকান্ডের প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।
ডিপ স্টেট মিডিয়াগুলোতে বলা হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প এপস্টিনকান্ডের মূল ভিলেন। তিনি যদি ভিলেন হবেন তাহলে তিনি এপস্টিন ফাইল প্রকাশ করবেন এমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন? প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তাঁর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রেখে সেগুলো প্রকাশ করল কেন? যদিও যা প্রকাশ করা হয়েছে সেটা অর্ধেক মাত্র এবং সেগুলো হয়ত অপেক্ষাকৃত কম বিষ্ময়কর ও কম ভূমিকম্প উৎপন্নকারী।
অবশ্যই এপস্টিন ফাইল প্রকাশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত দুর্নামের ঝুঁকি রয়েছে, এবং ঝুঁকি রয়েছে তার দলের অন্য রাজনীতিবীদ বা সহায়তাকারী ধনকুবেরদের। তবুও তারা এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এটা কেন করলেন?
এর কারণ মার্কিন ভুয়া অর্থনীতি ও তার আন্তর্জাতিক গ্রোবালিস্টিক ব্যংকিং ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলা। ট্রাম্প সরকারের অর্থনীতির নীতি নির্ধারকেরা মনে করে মার্কিন অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়েছে ২০০৮ এর বিশ্ব আর্থিক বিপর্যয়ের সময়ই। যে বিপর্যয় ডেমোক্র্যাটরা সূচিত করেছিল। তারা মনে করে এর পর থেকে মার্কিন অর্থনীতি আর উঠে দাড়ায়নি। কেবল জনগণকে ধোকা দিয়ে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলো মুনাফা করছে। তারা এটা ভেঙ্গে ফেলতে চায়। এই ধোকাবাজির এক কারিগর হলেন ওই অন্তর্বাস পরা বৃটেনের লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।
পিটার বেনজামিন ম্যান্ডেলসন বা ব্যারন ম্যান্ডেলসন ২১ অক্টোবর ১৯৫৩ সালে জন্ম নেয়া ব্রিটিশ লেবার পার্টির একজন প্রাক্তন রাজনীতিবিদ, লবিস্ট এবং কূটনীতিক। তিনি ১৯৯২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত হার্টলপুলের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন এবং টনি ব্লেয়ার এবং গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যেমন মন্ত্রী উইদাউট পোর্টফোলিও, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সেক্রেটারি অফ স্টেট, বিজনেস সেক্রেটারি এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি অফ স্টেট।
তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড কমিশনার ছিলেন। ২০০৮ সালে তিনি লাইফ পিয়ার হিসেবে হাউস অফ লর্ডসে উন্নীত হন এবং ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় বিজনেস সেক্রেটারি হিসেবে ফিরে আসেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন, কিন্তু সেপ্টেম্বরে জেফরি এপস্টিনের সাথে সম্পর্কের কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। সম্প্রতি তিনি লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং হাউস অফ লর্ডস থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে।
লর্ড ম্যান্ডেলসন এবং জেফরি এপস্টিনের মধ্যে ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অন্তত ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল, যা এপস্টিনের ২০০৮ সালের দোষী সাব্যস্ততার পরেও অব্যাহত ছিল। ২০০৩ সালে এপস্টিনের জন্মদিনের বইয়ে ম্যান্ডেলসন তাকে "আমার সেরা বন্ধু" বলে উল্লেখ করেন। ইমেলগুলোতে দেখা যায় যে এপস্টিনের দোষী সাব্যস্ততার পর ম্যান্ডেলসন তাকে সমর্থন করে বলেন যে "তার জন্য বিশ্ব ভাবে" এবং তাকে মুক্তির জন্য লড়াই করার পরামর্শ দেন।
ফাঁস হওয়া ছবিগুলোতে তাদের একসাথে দেখা যায়, যার মধ্যে ম্যান্ডেলসনের বাথরোব এবং অন্তর্বাসে ছবি রয়েছে, যা এপস্টিনের প্যারিস ফ্ল্যাটে তোলা।
এপস্টিন ২০০৩-২০০৪ সালে ম্যান্ডেলসন বা তার সঙ্গীকে ৭৫,০০০ ডলার পাঠিয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এপস্টিনের কারামুক্তির পর ম্যান্ডেলসনের সঙ্গী রেইনাল্ডো অ্যাভিলা দা সিলভাকে হাজার হাজার পাউন্ড পাঠানো হয়। ম্যান্ডেলসন ২০১৩ সালে এপস্টিনকে একজন ইসরায়েলি কনসালট্যান্টের ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের জন্য সাহায্য চান।
২০০৮ সালে গর্ডন ব্রাউনের অধীনে বিজনেস সেক্রেটারি হিসেবে ম্যান্ডেলসন বৃটিশ ২০০৮ বিশ্ব আর্থিক সংকটের প্রতিক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তিনি এপস্টিনকে মার্কেট-সেনসিটিভ তথ্য লিক করেন, যেমন ৫০০ বিলিয়ন ইউরোর বেলআউট পরিকল্পনা, ব্যাঙ্কারদের বোনাসের উপর কর, এবং সরকারি সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা, এগুলো। ২০০৯ সালে তিনি এপস্টিনকে একটি অভ্যন্তরীণ সরকারি রিপোর্ট পাঠান যাতে সংকটের পর অর্থ সংগ্রহের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে ২০ বিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ বিক্রিও রয়েছে। তিনি এপস্টিনকে লবিংয়ের পরামর্শ দেন যাতে ব্যাঙ্কারদের বোনাস কর কমানো যায়। ২০১০ সালের নির্বাচনের পর তিনি এপস্টিনকে ব্রাউনের পদত্যাগের খবর জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২০২৬ সালে এপস্টাইন-সম্পর্কিত ৩ মিলিয়নেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি মুক্তি দেয়, যাতে ম্যান্ডেলসন এবং এপস্টিনের মধ্যে ইমেল, ছবি এবং লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। এতে তাদের সম্পর্কের গভীরতা, ২০০৮ সালের দোষী সাব্যস্ততার পর সমর্থন, সংবেদনশীল তথ্য লিক এবং অর্থ লেনদেন উন্মোচিত হয়। এর ফলে ম্যান্ডেলসনকে আমেরিকায় বৃটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়, লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করতে হয়, হাউস অফ লর্ডস থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পুলিশ তদন্ত শুরু হয় মিসকন্ডাক্ট ইন পাবলিক অফিসের অভিযোগে। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন যে ম্যান্ডেলসন তাদের সম্পর্কের গভীরতা লুকিয়েছেন এবং এটি "দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা"। গর্ডন ব্রাউনও ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেন।
