১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঠিক আগে আগেই হঠাৎ করে মার্কিন দূতাবাসের ভেতরের একটি আলোচনায় এক মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য ফাঁস হল কেন, যেখানে জামায়াত ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার মার্কিন ইচ্ছা প্রতিফলিত হয়েছে?
উক্ত বক্তব্য ফাঁস হওয়া এটি প্রতিষ্ঠিত করে যে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার উচ্ছেদ করে আমেরিকা বাংলাদেশে মৌলবাদী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সরকার উচ্ছেদ করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বাইডেন–হ্যারিসের ডেমোক্র্যাটিক রেজিম কুখ্যাত ডোনাল্ড লু-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশে আসলে একটি নয়া অতি-উদারপন্থী এলজিবিটি বিপ্লব চেয়েছিল। সেই বিপ্লব ঘটিয়ে তারা দেখে যে তারা প্রতারিত হয়েছে। বাংলাদেশে নয়া অতি-উদারপন্থী এলজিবিটি বিপ্লবের নামে তারা একটি ইসলামী জিহাদি বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলেছে। এখন যারা ঘোড়ায় চড়ে বল্লম খঞ্জর হাতে ভারত বধে গাজওয়াতুল হিন্দে নেমে পড়েছে।
এই গাজওয়াতুল হিন্দ ঠেকানোর জন্যই তারা জামায়াত ইসলামীকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করেছে, যারা আসলে সিআইএ-এর দক্ষিণ এশীয় মিলিশিয়া। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এটি নিশ্চিত ছিল যে তাদের পাকিস্তানি ভৃত্য আইএসআই দ্বারা তারা জামায়াতকে হাতে রাখতে পারবে।
কিন্তু গত মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা পরাজিত হলে এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ডিপ স্টেট বিরোধী ট্রাম্প ক্ষমতা অধিগ্রহণ করলে হিসাব পাল্টে যায়। হিসাব পাল্টে গেলেও বাংলাদেশে খুব একটা পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় না, কারণ নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক ধীর গতির কারণে।
গত ২২ অক্টোবর এস পল কাপুর কুখ্যাত ডোনাল্ড লু-এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ওই অক্টোবর মাসেই তার কিছুদিন আগেই ভারতে এবং বাংলাদেশে নতুন রাষ্ট্রদূতদের নিয়োগ হয়। এর পর নির্বাচনের আগে আগেই ফাঁস হয় মার্কিন কূটনীতিকের বক্তব্য।
২০২৪-এর আগস্টে সন্ত্রাস ও দাঙ্গার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনে জড়িত তারেক জিয়া ১৫ মাস প্রাণের ভয়ে দেশে আসতে না পারলেও ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে আসেন। এটি প্রমাণ করে যে ছাত্ররা ও জামায়াত আউট এবং বিএনপি ইন, যেহেতু বিএনপি তুলনামূলক কম মৌলবাদী এবং তারা রাজনৈতিকভাবে বেশি জনপ্রিয়।
পল কাপুর ভারত–পাকিস্তান নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। তার লেখা একটি বই হল “জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি” বা “মহা কৌশল হিসেবে জিহাদ”।
কাপুরকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, যেটা আমেরিকার কূটনৈতিক শাখার এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ পদ।
মার্কিন নৌ-পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিভাগের অধ্যাপক এবং স্ট্যানফোর্ডের হুভার ইনস্টিটিউশনের ফেলো, কাপুর ট্রাম্পের রাষ্ট্রপতিত্বের শেষ বছরে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নীতি পরিকল্পনা দলে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে কাজ করেছিলেন। কাপুর ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনা কলেজেও শিক্ষকতা করেছেন এবং স্ট্যানফোর্ডে একজন ভিজিটিং প্রফেসর ছিলেন।
কাপুরের লেখা “জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি” বইয়ের সূচীপত্র:
১। ভূমিকা — ১
২। একটি সামরিক প্রক্সি কৌশলের যুক্তি — ১৩
৩। বিভাজন ও একটি উদীয়মান কৌশল — ৩২
৪। পাকিস্তানের সামরিক কৌশলের বিবর্তন — ৫১
৫। কাশ্মীর ও আফগানিস্তান পুনরালোচনা — ৮১
৬। গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি হিসেবে জিহাদ: একটি মূল্যায়ন — ১১১
৭। ভবিষ্যৎ: পাকিস্তান কি জিহাদ পরিত্যাগ করতে পারবে?
বাংলাদেশে জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়া। জিয়াই সশস্ত্র বাহিনীতে ভুয়া হাদিসের ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা। জিয়াই বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষী রাজনীতিকে সরকারীকরণ করেছে। জিয়াই বাংলাদেশে ছাত্র রাজনীতিকে সরকারীকরণ করেছে। জিয়াই বাংলাদেশে শয়তানবাদের প্রতিষ্ঠাতা। সেই হিসাবে বাংলাদেশের রাজনীতিকে ধ্বংস করেছে জিয়া ডকট্রিন এবং সেটাকে সন্ত্রাসীকরণ করেছে তার ছেলে তারেক জিয়া হাওয়া ভবনকেন্দ্রিক ডিপ স্টেট অফিস খুলে, যার পেছনে ছিল পাকিস্তানের আইএসআই এবং সিআইএ।
সুতরাং জিয়া–তারেকের রাজনীতির ভিত্তি গ্লোবাল ডিপ স্টেট এবং তাদের অস্ত্র ইসলামী মৌলবাদ। তাদের বন্ধু পাকিস্তান এবং লক্ষ্য বাঙালি নয়, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ—যাদের দেশ হবে বাংলাদেশ নামের পূর্ব পাকিস্তান।
জিয়া, এরশাদ, ফ্রিডম পার্টি, তারেক জিয়া—এদের সবার শক্তির ভিত্তি হল “জিহাদ অ্যাজ এ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি”। সেই শক্তির অর্থ সরবরাহ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্য। ট্রাম্পের আমেরিকা থেকে সেই টাকা শুধু বন্ধই হবে না, তারা অন্তত দক্ষিণ এশিয়ায় জিহাদ অ্যাজ গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজির বিরোধী।
২০২৬-এর বিএনপিকে তাই বদলে যেতে হবে। তাদের আনা হয়েছে সেই শর্তেই যে ভারতবিরোধিতা এবং মৌলবাদ ছেড়ে দিতে হবে। সবাই জানে তারেক জিয়া সেটা পারবে না। তার পর কী হবে, সেটা সবাই জানে।
জয় বাংলা।
© সিরাজুল হোসেন
