EN
আরও পড়ুন
রাজনীতি
রাজনীতি
শুধু সাম্প্রদায়িকতার লেন্সে বাংলাদেশ
রাজনীতি
ভেনেজুয়েলার তেল যেন চীন রাশিয়া ব্যবহার করতে না পারে সেটাই আসল লক্ষ্য
রাজনীতি
জেনারেল মারকানো টাবাটা পদচ্যুত ও গ্রেপ্তার
JadeWits Technologies Limited
রাজনীতি

ইকরা মানে কি? প্রথম শব্দেই শয়তানী অনুবাদ

ইসলামকে শয়তানীকরণ -১: কোরানকে মানববিবর্জিতকরণ

বন্ধুটি আমার বেশ ধার্মিক, পরহেজগারও বটে, তবে কট্টর বা মৌলবাদী মানসিকতার নয়। আসলে ব্যক্তি হিসাবে সে অনেকটা রহস্যবাদী। সেই হিসাবে তার ধার্মিক চরিত্র অনেকটাই মারফতি বা প্রেমপূর্ণ আবেগের অতীন্দ্রিয় ইসলাম বিশ্বাসে নিবদ্ধ। সেই কারণে আমরা প্রাত্যহিক জীবনে বিজ্ঞান ও যুক্তির পথে চললেও সে কখনও আমাদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেনি। তার মুক্ত হৃদয় হয়তো অনুভব করেছে যে আমরা অন্যায় ও মন্দের পক্ষে নই, তাই তার সাথে আমাদের কোনো সংঘাত সে দেখেনি।

আমার সেই মহৎ হৃদয়, শান্ত ও অবিচল ধার্মিক বন্ধুটি হঠাৎ একদিন বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে বলল, তার স্ত্রীর পক্ষের এক বড় ভাই আমার লেখা পড়েন এবং তিনি আমার সাথে একটু কথা বলতে চান। আমি রাজি থাকলে সে উভয়কে তার বাসায় আমন্ত্রণ জানাবে।

সাধারণত এইরকম আমন্ত্রণ আমি একটু এড়িয়ে চলি। এর কারণ, পাঠকের পাঠের উৎসাহে ভাটা পড়ুক সেটা চাই না। পাঠক সবসময়ই লেখককে খণ্ডিতভাবে এবং একপ্রকার স্থিরচিত্রায়িত করে দেখে। অনেকটা ক্যামেরা যেমন কোনো মুহূর্তকে স্থির করে ফেলে তেমন। গ্রামের রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে গ্রামের সবচেয়ে ঢিমা, শান্ত, লাজুক একটি মেয়ে। হঠাৎ সামনে সাপ দেখে ব্যাঙের মতো লাফিয়ে উঠল সে। দূর থেকে এক ফটোগ্রাফার লো অ্যাঙ্গেল থেকে তুলে ফেলল তার লাফ দেওয়া অবস্থায় ছবি, সাপটাকে না দেখেই। ছবি দেখে মানুষ ভাববে মেয়েটা রাস্তা-ঘাটে লাফালাফি করে বেড়ায়। লেখকদের লেখাও তেমন। বেশিরভাগ পাঠকই সাপ দেখে না, শুধু লাফ দেখে মনে করে লেখক সারাদিন লাফালাফি করেই বেড়ায়। আমি যা লিখি, তার সাথে কেন লিখি সেটা না বুঝলে পাঠক আমাকে পড়ে না, সে নিজেকে পড়ে আমার লেখা হরফগুলোর মধ্যে।

আমি অনুৎসাহিত হলেও বন্ধুটি অনেকটা নাছোড়বান্দা। তার স্ত্রীর পক্ষের সেই বড় ভাই নাকি তার স্ত্রীকে বারবার বলছে। ফলে রাজি হতেই হল। বেচারার দাম্পত্যমূল্য রক্ষা করার জন্য এটুকু করতেই হয়। তবে প্রশ্ন করলাম, বিষয়টা কী? উত্তর যা ভেবেছিলাম তাই। তার স্ত্রীর পক্ষের সেই বড় ভাই আমার রাজনৈতিক লেখার খুব ভক্ত, কিন্তু ধর্মীয় লেখার জন্য বিরক্ত। বলা বাহুল্য, তিনি একজন প্রবাসে থাকা শরিয়তপন্থী আলেম।

বন্ধুর সেই বড় ভাই সুন্দর করে কাটা বড় দাড়িসহ চেহারা ও পোশাকে খুবই পরিপাটি। তিনি এলেন তাঁর দুই পুত্রসহ, যাদের মুখে ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি এবং আধুনিক পোশাক। প্রথম আলাপেই মনে হল, খুবই খোশমেজাজি ও আমুদে ভদ্রলোক, যার সাথে সব রকম আলাপ করা যায়। কিন্তু তার ছেলে দুটো অনেকটাই ভাবলেশহীন, যাদের মনে কী ঘটছে বোঝা মুশকিল।

আগেই বলেছি, ধর্মীয় বিষয়ে লেখা নিয়ে ধার্মিকদের সাথে আলাপ বা বিতর্কে আমি খুব একটা আগ্রহী নই, কারণ আমি কেন সেটা লিখেছি সেটা সাধারণ ধার্মিকদের পক্ষে অনেক সময়ই ধরতে পারা কঠিন। তারা মৌলিক কারণ না বুঝে মনে করে ধর্ম আমার লক্ষ্য। যেমন যিনা বা অবৈধ সম্পর্কের জন্য নারীকে পাথর ছুড়ে হত্যার মতো ভুয়া হাদিসের মাধ্যমে ধর্মের মধ্যে মধ্যযুগীয় ইহুদি বা খ্রিস্টান মতাদর্শ ঢুকিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে লেখা মানে হাদিসের বিরুদ্ধে লেখা নয়। এটা প্রগতি ও আধুনিকতাবিরোধী রাজনীতির বিরুদ্ধে লেখা।

আলাপ শুরু হলে সেই বড় ভাই আমার লেখার অনেক প্রশংসা করলেন। এর পর কোরান হাদিস নিয়ে অনেক কথা বললেন। আমি চুপ করে শুনলাম। কোনো বিতর্কে গেলাম না। মৃদু হেসে মাথা নেড়ে গেলাম। বক্তৃতা শেষ করে তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, আমি কোরান হাদিস সম্পর্কে কোথায় জ্ঞান লাভ করেছি। আমি উত্তরে বললাম, কোরান হাদিস সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নাই। আমার জ্ঞান মানুষ সম্পর্কে। আমি সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, নৃবিজ্ঞান, ভাষাবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনোবিদ্যার ছাত্র। কোরান হাদিস নয়, কোরান হাদিস যারা পড়ে, আমার জ্ঞান তাদের সম্পর্কে। বেবুন, শিম্পাঞ্জি, নিয়ানডার্থাল ও হোমোস্যাপিয়েন—এইরকম নানা প্রজাতির হাতে কোরান হাদিসের পুস্তক পড়লে কী হতে পারে, সেটা নিয়ে আমার চর্চা। আমার সূক্ষ্ম খোঁচা তিনি বুঝলেন
কিনা বোঝা গেল না। তবে তার ছেলেদুটির চোয়াল শক্ত হয়ে যেতে দেখলাম।

এর পর আমি ফিরতি প্রশ্ন করলাম, “আপনি কোরান পড়েছেন?”

ভদ্রলোক একটু থতমত খেয়ে গেলেন মনে হল, কোনো জবাব দিলেন না। কিন্তু তাঁর ছেলে দুটোর মুখ লাল হয়ে যেতে দেখলাম।

আমি ফিরতি প্রশ্ন করলাম, “কোরানের প্রথম শব্দ কী?”

তিনি বললেন, “ইকরা”, মানে “পড়”।

আমি বললাম, নবী মুহম্মদ পড়তেও জানতেন না, লিখতেও জানতেন না, তাঁকে পড়তে বলা হবে কেন?
আমি যে এই মৌলিক প্রশ্ন করব, সেটা তিনি কল্পনাও করেননি। তিনি কোনো জবাব দিতে পারলেন না।

কোরানের সবগুলো পুস্তক, অনুবাদ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আসেন, বেশিরভাগে লেখা আছে “ইকরা”, মানে “পড়”। কোরান লিখিত আকারে নাজিল হয়নি; বরং আল্লাহর কালাম ওহীর মাধ্যমে রাসূল মুহম্মদ এর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল। এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, “যদি লিখিত না থাকে তবে ‘পড়ো’ বা ‘পাঠ করো’ আদেশের মানে কী?” আরবী শব্দ ইকরা "লিখিত লেখা থেকে পড়ো" এই অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়। এর আরেকটি অর্থ হলো আবৃত্তি বা তিলাওয়াত করো বা উচ্চারণ করো, অর্থাৎ মুখস্থ বা শুনে উচ্চারণ করা।

নবী মুহম্মদ ছিলেন উম্মি (অশিক্ষিত, লিখতে-পড়তে জানতেন না), তাই এখানে "ইকরা" অর্থ দাঁড়ায়: "তুমি এই ওহীটি জিবরাইল থেকে শোনো এবং পাঠ করো, অর্থাৎ মানুষের কাছে পৌঁছে দাও।"

প্রাচীন আরব সমাজ ছিল মৌখিক সংস্কৃতিভিত্তিক। কবিতা, ইতিহাস, বংশতালিকা—সবকিছু মুখস্থ করে মুখে মুখে প্রচলিত হতো। তাই "ইকরা" মানে আল্লাহর বাণী শোনো, মুখে উচ্চারণ করো, মানুষের কাছে তা পৌঁছে দাও।

এটি পরে সাহাবারা লিখে রাখেন (চামড়া, অস্থি, পাতায়) এবং পরে মুসলিম খলিফা উসমান এর সময় একত্র করে মুসহাফ আকারে সাজানো হয়।

ইসলামের ইতিহাস নিয়ে যেসব পণ্ডিত কাজ করেছেন, তাদের মতে কোরানের মত তিলাওয়াত ইসলামপূর্ব আরবে মক্কায় প্রচলিত ছিল। কাবায় ছিল মন্দির। সেই মন্দিরে থাকত অনেক দেবদেবীর মূর্তি এবং এক নারী কাবার দুয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে মধুর কিন্তু করুণ সুরে নিপীড়িত মানুষের কষ্ট এবং পরিণতি নিয়ে নৈতিক বাণী তিলাওয়াত বা আবৃত্তি করতেন। যে নারীর আবৃত্তি তরুণ নবী মুহম্মদ আগ্রহ নিয়ে শুনতেন, যেটা তার মনে দাগ কাটত।

কাবায় মু‘ল্লাকাতের চর্চা বা আবৃত্তি প্রাক-ইসলামী আরব সমাজের একটি বিখ্যাত কিংবদন্তি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। মু‘ল্লাকাতের আরবি অর্থ "ঝুলন্ত কবিতা"। হলো প্রাক-ইসলামী যুগের সাতটি (কখনো ১০টি বলা হয়) দীর্ঘ কবিতার সংকলন, যা আরব সাহিত্যের সর্বোচ্চ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।

প্রাক-ইসলামী যুগে আরবরা কবিতাকে অত্যন্ত মূল্যবান মনে করত এবং এটি তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমাজের প্রতিফলন ছিল। কথিত আছে যে, উকাজের মেলায় বার্ষিক কবিতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো, যেখানে বিভিন্ন গোত্রের কবিরা অংশগ্রহণ করতেন। বিজয়ী কবিতাগুলোকে সোনার অক্ষরে লেখা কপ্টিক লিনেন বা চামড়ায় লিখে কাবার পর্দা বা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। এই "ঝুলানো" (আল্লাকাত) থেকেই এদের নাম মু‘ল্লাকাত হয়েছে। এই চর্চা কাবাকে একটি সাহিত্যিক এবং ধর্মীয় কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করত, যেখানে কাবা তখন বহুদেবতাবাদী পূজাস্থল ছিল।

ইবন আব্দ রাব্বিহের "আল-ইকদ আল-ফারিদ" গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, আরবরা কবিতাকে এতটাই মূল্যবান মনে করত যে, সাতটি নির্বাচিত কবিতাকে সোনার অক্ষরে লিখে কাবার পর্দায় ঝুলিয়ে রাখত। এই কবিতাগুলোতে যুদ্ধ, প্রেম, যাযাবর জীবন, মরুভূমির কষ্ট এবং গোত্রীয় গৌরবের বর্ণনা ছিল, যা প্রাক-ইসলামী সমাজের জীবনধারা প্রতিফলিত করত।

ইসলামের আগমনের সাথে (৬৩০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের সময়) কাবা থেকে মূর্তিগুলো অপসারণ করা হয়, কিন্তু মু‘ল্লাকাতের কবিতাগুলো আরব ভাষা এবং সাহিত্যের ভিত্তি গড়ে তুলেছে এবং কোরানের ভাষাগত প্রভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। ওদিকে লিখিত আরবী বা আরবী স্ক্রিপ্ট বা আরবি অক্ষরবিন্যাস খুবই নতুন। 

দ্বিতীয় বা প্রথম শতাব্দী খ্রিস্টপূর্বে আরবি স্ক্রিপ্টের উৎপত্তি নাবাতিয়ান আরামাইক থেকে হয়েছে, যা ফিনিশীয় অ্যালফাবেটের মাধ্যমে প্রোটো-সিনাইটিক স্ক্রিপ্ট থেকে এসেছে। এই সময়ে স্ক্রিপ্টটি আরামাইক ভাষার জন্য ব্যবহৃত হতো, কিন্তু ধীরে ধীরে আরবি বৈশিষ্ট্য যোগ হয়েছে, যেমন অক্ষরের আকার পরিবর্তন। এটি মূলত স্মারক শিলালিপি এবং কার্সিভ বা হাতে লেখায় ব্যবহৃত হতো, যা প্যাপিরাস কাগজে লেখা হতো। এই পর্যায়ে লিখিত আরবি ভাষা এখনও প্রাথমিক অবস্থায় ছিল এবং সমাজে মৌখিক ঐতিহ্যই প্রধান ছিল।

খ্রিস্টাব্দ মধ্য পঞ্চম শতাব্দীতে আরামাইক এবং আরবি ভাষার মিশ্রণ ঘটে। অক্ষরগুলো যুক্ত হতে শুরু করে এবং কিছু ডায়াক্রিটিক ডট (নোকতা) যোগ হয়। প্রাক-ইসলামী শিলালিপিগুলো, যেমন আন-নামারা শিলালিপি (৩২৮ খ্রিস্টাব্দ, সিরিয়া), নাবাতিয়ান বৈশিষ্ট্যসহ আরবি ভাষায় লেখা একটি সমাধি-শিলালিপি। এই পর্যায়ে লিখিত আরবি আরও বিকশিত হয়, কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ আরবি ফর্মে পৌঁছায়নি। এটি মূলত বাণিজ্য এবং স্মারক লেখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতো।

খ্রিস্টাব্দ শেষ পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাক-ইসলামী আরবি স্ক্রিপ্ট ইসলামী যুগের মতো হয়ে ওঠে। সাফাইটিক উপভাষা (যাযাবর উপজাতিদের) প্রধান ছিল এবং সীমিত শিলালিপি, যেমন গ্রাফিতি বা উৎসর্গমূলক লেখা পাওয়া যায়। সাক্ষরতা খুবই কম ছিল। প্রাচীনতম সংরক্ষিত আরবি লেখা: যাবাদ (৫১২ খ্রিস্টাব্দ, সিরিয়া), ত্রিভাষিক উৎসর্গ। জাবাল উসায়স (৫২৮ খ্রিস্টাব্দ) সামরিক রেকর্ড। এই সময়ে আরবি ভাষা মূলত মৌখিক ছিল, কিন্তু লিখিত ফর্ম ধীরে ধীরে বাড়ছিল।

৫৭০ খ্রিস্টাব্দের মক্কা-মদীনায় আরবী লিখিত ভাষা একটি রূপান্তরকালীন পর্যায়ে পৌঁছায়। প্যালিও-আরবি স্ক্রিপ্ট তখন উদ্ভূত হচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশই নোকতা-বিহীন। তখন মক্কা-মদীনা বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল; ছিল বহুদেবতাবাদী সমাজ, যেখানে আরবি ভাষা তখনও প্রধানত মৌখিক ছিল। লিখিত ফর্ম সীমিত ছিল বাণিজ্য বা গ্রাফিতিতে বা স্মৃতিফলকে।

নবী মুহম্মদের মৃত্যুর বেশ পরে খ্রিস্টাব্দ সপ্তম শতাব্দীতে ২৮টি অক্ষর নির্ধারিত হয়, নোকতা যোগ হয় (যেমন ত/থ পার্থক্য করতে)। জাজম স্ক্রিপ্ট প্রাথমিক কোরানে ব্যবহৃত হয়। ৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে কুফিক (কোণাকার, অলঙ্কারময়) কোরানের জন্য ব্যবহার শুরু হয়।

খ্রিস্টাব্দ অষ্টম শতাব্দীতে ডায়াক্রিটিকাল চিহ্ন (হরকত) যোগ হয়। আল-খলিল ইবন আহমাদ আল-ফারাহিদি (মৃত্যু ৭৮৬) স্বরচিহ্ন (হরকত) এবং হামজা যোগ করেন। এটি আরবি লেখাকে আরও স্পষ্ট এবং পাঠযোগ্য করে তোলে, বিশেষ করে অ-আরবদের জন্য। এই উন্নয়ন কোরানের সঠিক উচ্চারণ এবং সাহিত্যের বিকাশে সাহায্য করে।

অর্থাৎ খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শুরুতে যখন কোরান প্রথম নাজিল হয়, তখনকার আরবি লিপি, যা বিশেষত হিজাজি বা প্রোটো-কুফি লিপি, ছিল অত্যন্ত অপরিণত, যেটাতে স্বরচিহ্ন, বিন্দু বা পূর্ণ বর্ণচিহ্ন ছিল না, যা বক্তব্যের অর্থ প্রকাশের স্বয়ংসম্পূর্ণ মাধ্যম নয়। তখন আরবী ভাষা মূলত ছিল কথ্য ও আবৃত্তিভিত্তিক স্মরণনির্ভর (mnemonic tool), যেখানে ভাব প্রকাশিত ও বক্তব্যের অর্থ সংরক্ষণ হত মৌখিক পাঠ ও সুরের মাধ্যমে।

এখন বিজ্ঞজন প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে সুরা আল-আলাক (৯৬:৪)-এ যখন বলা হল, “আল্লাজি 'আল্লামা বিল কালাম”, যার অনুবাদ করা হয়েছে “যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিলেন”। এটি মোটেই লেখার কলম নয়। আরবীতে কালাম শব্দের মূল ধাতুগত অর্থ “কাটা,” “ছাঁটা,” “আকৃতি দেওয়া।” যে অর্থে “আল্লাজি আল্লামা বিল কালাম”-এর অর্থ “যিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন চিহ্ন ও প্রতীকের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশের ক্ষমতা।” কারণ কোরান একটি সাংকেতিক গ্রন্থ (বুক অব কোডস)। যে সংকেত একজন প্রকৃত মুমিন এবং ঈশ্বরজ্ঞানে জ্ঞানীই ডিকোড করতে পারেন।

পাথরে লিখিত ইহুদিদের মুসা নবীর কাছে পাঠানো আল্লাহর ১০টি নির্দেশ এবং সেই সময় লিখিত বাইবেল থাকা সত্ত্বেও কেন কোরান লিখিত আকারে রেখে যাননি নবী মুহম্মদ? কেন মুসলমানদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ—যে তোমরা তোমাদের নবী মুহম্মদের জীবন অনুসরণ কর—এই নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের জীবনী লিপিবদ্ধ করে যাননি, এমনকি সেটা করতে নিষেধ করেছিলেন? কারণ তিনি এতটাই ভবিষ্যতদ্রষ্টা বা ভিশনারি ছিলেন যে তিনি জানতেন, লিখে রেখে গেলে ভুয়া মুসলমানেরা সেটাকে মানববিবর্জিতকরণ করে শয়তানের অস্ত্রে পরিণত করবে। যেমন ইহুদিরা তালমুদকে করেছে। এই শয়তানের অস্ত্র ধারালো করার জন্য তারা ভুয়া হাদিস ছড়িয়ে দিয়েছে যে নবী মুহম্মদ জ্ঞান অর্জনের জন্য চীন দেশে যেতে বলেছেন।

খুব সুচারূভাবে ইহুদি শয়তানচর্চার নীল নকশা অনুসরণ করে কোরানকে পুস্তকের হরফে আবদ্ধ করে, ইহুদি তালমুদ অনুসরণ করে হাজার হাজার ভূয়া হাদিস ছড়িয়ে ইসলামকে একটি উয়োক মাইন্ড ভাইরাস বানানো হয়েছে বিশ্ব বিজয়ের জন্য। যে ইহুদি কাবাল একই শয়তানতন্ত্র অনুসরণ করে সারা দুনিয়াকে একটি পারমাণবিক বিশ্বযু্দ্ধের দ্বারপ্রান্তে এনে ফেলেছে পশ্চিমা বিশ্বকে ব্যবহার করে। আশ্চর্য হবার কিছুই নাই যে ভুয়া হাদিসের মুসলিমরা, যেমন পাকিস্তান তুরষ্ক এবং আরো অনেক মৌলবাদী মুসলিম তাদের সহায়তাকারী।   

পরের পর্বে: ভুয়া হাদিস পুস্তক কেন আত্মঘাতী  

© সিরজুল হোসেন

JadeWits Technologies Limited
সর্বশেষপঠিতনির্বাচিত

আমরা আমাদের সেবা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করি। আমাদের কুকি নীতির শর্তাবলী জানার জন্য অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন। কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মত হলে, 'সম্মতি দিন' বাটনে ক্লিক করুন।