EN
আরও পড়ুন
মানসিক সমৃদ্ধি ও সম্পর্ক
মুখে জয় বাংলা হাতে ছুরি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
অপারেটর, অগ্নিনির্বাপক কর্মী, স্থানান্তরিত এবং বেঁচে যাওয়া মানুষদের গল্প — বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনায় আটকে পড়া মানুষদের কাহিনি
রাজনীতি
শয়তানবাদীদের খোলামেলাভাবে আন্তর্জাতিক আইন, প্রথা এবং জাতিসংঘের চুক্তি অবজ্ঞা
রাজনীতি
মার্কিন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার প্রভাবে
JadeWits Technologies Limited
রাজনীতি

মনিব আমেরিকা ত্যাজ্য করেছে

জাপানই এখন রোনিন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হেরে যাওয়া জাপানকে দখল করে, জাপানের পুলিশ বিলুপ্ত করে, জাপানের সশস্ত্র বাহিনীকে পঙ্গু করে রেড পার্জ ও ইয়াকুজা মাফিয়া দিয়ে জাপানের জাতীয়তাবাদীদের বিলুপ্ত করে জাপান দেশটাকে ভেতর থেকে ধ্বংস করেছে আমেরিকা। ঠিক একই কাজ ২০২৪ এর মার্কিন রেজিম চেঞ্জের পর আমেরিকানরা বাংলাদেশে করতে চাইছে। 

ট্রাম্পের আমেরিকা জাপানকে ত্যাজ্য করার পর জাপানীরা এখন মনে করছে যে যুদ্ধাস্ত্র আর সামরিকাতাই তাদের একমাত্র সমস্যা। আসলে আমেরিকা কতৃক জাপানের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি ধ্বংস আরো অনেক বড় সমস্যা। জাপানের সামাজিক অবস্থা বিপর্যস্ত ও পতনের মুখে। 
আমি অবাক বিস্ময়ে দেখছি জাপানের অবস্থা তাদের সামুরাই যুগের রোনিনদের মতই। রোনিন সম্পর্কে আমার প্রথম ধারণা হয় রবার্ট ডি নিরো ও জাঁ রেনোর অসাধারণ অভিনয়ের রোনিন ছবিটি থেকে। 

রোনিন ছবিটি শুরু হয় প্যারিসের মমার্ত্রের একটি বিস্ত্রোতে। বিস্ত্রো হল ছোট, ঘরোয়া ক্যাফে। প্যারিসের মমার্ত্রের বিস্ত্রোতে আমি গিয়েছি। ওই বিস্ত্রোগুলোতে গেলে আপনার মনে হবে সেখানকার সবাই আপনার কতইনা আপন বন্ধু। কিন্তু বিস্ত্রো থেকে বের হয়ে প্যারিসের রাস্তায় এলেই মনে হবে পরিচিতরাও যেন কত অপরিচিত। এই বিস্ত্রোগুলো যেন প্যারিসের রাস্তাগুলোর নিষ্ঠুর অমানবিকতার বিপরীত প্রতিবিম্ব হিসাবেই তৈরি। 

রোনিন ছবিতে আইরিশ রিপাবলিকান আর্মির (আইআরএ) অপারেটিভ ডিয়ার্ড্রে (নাতাশা ম্যাকএলহোন) দুই আমেরিকান, স্যাম (রবার্ট ডি নিরো) ও ল্যারি, এবং ফরাসি ভিনসেন্ট (জাঁ রেনো)-কে নিয়ে একটি ওয়্যারহাউজে যায়। সেখানে ইংরেজ স্পেন্স (শন বিন) এবং জার্মান গ্রেগর (স্টেলান স্কার্সগার্ড) তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

এরা সবাই প্রাক্তন সরকারি বা মিলিটারি সিক্রেট এজেন্ট, এখন যারা মার্সেনারি বা ভাড়াটে যোদ্ধা। ডিয়ার্ড্রে তাদের মিশন ব্রিফ করে - একটি ভারী সশস্ত্র কনভয় থেকে একটি বড় ধাতব ব্রিফকেস চুরি করতে হবে। ব্রিফকেসের ভিতরে কী আছে, সেটা কখনোই প্রকাশ করা হয় না।

প্রথমে অস্ত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে দলটি অ্যামবুশের শিকার হয়, কিন্তু সবাই বেঁচে যায়। স্যাম স্পেন্সকে সন্দেহ করে এবং ধোকাবাজ বলে ধরে ফেলে, ডিয়ার্ড্রে তাকে টিম থেকে বের করে দেয়। ডিয়ার্ড্রের ভিন্ন হ্যান্ডলার সিয়ামাস ও’রুর্ক (জোনাথন প্রাইস) তাকে জানায় যে রাশিয়ান মাফিয়ারা ওই ব্রিফকেসের জন্য বিড করছে।

দলটি ফ্রান্সের নিস এর উত্তরে ভিলেফ্রঁশ-সুর-মেরে এলাকায় কনভয়টিকে অ্যামবুশ করে। তীব্র গুলি বিনিময় ও গাড়ি ধাওয়াধায়ীর পর তারা নিস এ পৌঁছায়। কিন্তু গ্রেগর বিশ্বাসঘাতকতা করে ব্রিফকেসটি নিয়ে নেয় এবং সেই যায়গায় বিস্ফোরক রেখে দেয়। সে ব্রিফকেসটি রাশিয়ানদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করে, কিন্তু তার কনট্যাক্ট তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। গ্রেগর তাকে মেরে ফেলে এবং রাশিয়ান বস মিখি (ফেডর আটকিন)-এর সাথে নতুন সমঝোতার ব্যবস্থা করে।

দলের বাকিরা স্যামের পুরনো কনট্যাক্টের সাহায্যে গ্রেগরকে আরলেস অ্যাম্ফিথিয়েটারে ধরে ফেলে। সেখানে গুলি বিনিময় হয়। গ্রেগরকে সিয়ামাস ধরে নিয়ে যায়। ডিয়ার্ড্রে ও ভিনসেন্ট রাশিয়ানদের সাথে লড়াই করে। স্যাম আহত হয়। সিয়ামাস ল্যারিকে মেরে ফেলে, ডিয়ার্ড্রে ও গ্রেগরকে নিয়ে পালায়।

ভিনসেন্ট স্যামকে তার বন্ধু জ্যাঁ-পিয়ের (মাইকেল লন্সডেল)-এর ভিলায় নিয়ে যায়। জ্যাঁ-পিয়ের স্যামের ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে এবং তাকে ৪৭ রোনিনের গল্প শোনায় — যারা প্রভুর মৃত্যুর পর মনিববিহীন হয়ে রোনিন জীবন অনুসরণ করে। ভিনসেন্টের অনুরোধে জ্যাঁ-পিয়ের তাদের সাহায্য করে গ্রেগর ও আইরিশদের খুঁজে বের করতে।

জাপানের রোনিন শব্দের অর্থ "ঢেউয়ে চালিত মানুষ" বা "ভাসমান" মানুষ। জাপানের সামুরাই যুগে যে সামুরাইরা তার প্রভু (দাইমিও) হারিয়ে ফেলত, সে রোনিন হয়ে যেত। প্রভুর মৃত্যু, যুদ্ধে পরাজয়, বা প্রভুর দুর্নীতি/শাস্তির কারণে জমিদারি বাজেয়াপ্ত হলে সামুরাইরা মনিববিহীন হয়ে পড়ত।

রোনিনদের অবস্থা ছিল খুবই করুণ — তারা সমাজে সম্মান হারাত, অনেকে দারিদ্র্যে ভুগত, কেউ কেউ ডাকাতি বা অন্য কাজ করে বেঁচে থাকত। বুশিদো বা সামুরাই আদর্শ অনুসারে অনেকে নিজেকে সেপ্পুকু (সম্মানজনক আত্মহত্যা) করে সম্মান রক্ষা করতেন। যদিও সবাই তা করতেন না।

রোনিন হওয়া আসলে একটি জীবন্ত মৃত্যু হওয়া, যেন সে একটি আত্মবিহীন ছায়া যার সময় মনিবের মৃত্যুর দিনেই থেমে গেছে। রোনিন যেন আর আশা আকাঙ্খা নিয়ে বর্তমানে বাস করে না—সে অতীতের মধ্যে আটকে যায়, যে নস্টালজিয়া ও অবসেশনের মধ্যে ধীরে ধীরে নিজেকে মুছে ফেলে।

মনিবের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে রোনিনের সামাজিক অস্তিত্ব শেষ হয়ে যায়। জাপানি সমাজে সামুরাইয়ের পরিচয় তার প্রভুর সঙ্গে জড়িত। প্রভু চলে গেলে সে আর কেউ নয়—শুধু একজন "মনিববিহীন" ভবঘুরে। তার এই "মনিববিহীন" অবস্থা শুধু চাকরি হারানো নয়, তার আত্মপরিচয়ের মৃত্যু।

রোনিন নিজের আত্মকে মুছে ফেলে কারণ তার নিজস্ব ইচ্ছা, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবকিছু প্রভুর প্রতি আনুগত্যের কাছে বলি দেয়া হয়েছে। সেই প্রভুই আর নেই। রোনিন তাই জীবিত ভূত। সে হাঁটে, কথা বলে, লড়াই করে, কিন্তু তার চোখে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। তার আত্মা মনিবের সঙ্গে চলে গেছে। বাকি শরীরটা শুধু একটা যন্ত্র—প্রতিশোধের যন্ত্র।

রোনিনেন ইতিহাসের জাপান - পুরো দেশটাই যেন এখন রোনিন, মনিব আমেরিকা তাকে ত্যাগ করেছে।

© সিরাজুল হোসেন See less

JadeWits Technologies Limited
সর্বশেষপঠিতনির্বাচিত

আমরা আমাদের সেবা উন্নত করতে কুকি ব্যবহার করি। আমাদের কুকি নীতির শর্তাবলী জানার জন্য অনুগ্রহ করে এখানে ক্লিক করুন। কুকি ব্যবহারের জন্য আপনি সম্মত হলে, 'সম্মতি দিন' বাটনে ক্লিক করুন।