রাশিয়া থেকে রূপপুরের পারমানবিক চুল্লির ইউরেনিয়াম এসে গেছে। বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ঢাকা থেকে সড়ক পথে এই ইউরেনিয়ামের চালান আজ ভোরে রওনা হয় রূপপুরের পথে। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এটাই হল দেশের প্রথম পারমাণবিক ভোগান্তি। লিখেছিলাম আজ থেকে নিউক্লিয়ার ঝুঁকির মুখে দেশ। ক্রমেই সরকারী কর্মকর্তারা দায়ীত্বহীন হচ্ছে, আইন কানুন অবজ্ঞা করছে, অবহেলায় মৃত্যুর দায় নিচ্ছে না এবং সাধারণ জনগণের জীবনের মূল্য কমছে এদেশে। ভয়ের কথা সেটাই। এই ভয়ের সাথে আছে নানা রকম ঝুঁকিগ্রহণ (নিউক্লিয়ার হ্যাজার্ড)। এই হ্যাজার্ড শুধুমাত্র পারমানবিক চুল্লি দুর্ঘটনা (মেল্টডাউন), তেজস্ক্রিয় পদার্থ লিক হওয়া বা পারমাণবিক কেন্দ্রে কর্মরত মানুষদের তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ঝুঁকি নয়, এই হ্যাজার্ড রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগতও বটে।
রামপাল ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দেশের রাজনৈতিক, ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত যে গুনগত পরিবর্তন হতে যাচ্ছে সেটা সম্পর্কে আমরা যথেষ্ট সজাগ কি? এর ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাড়বে পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণ। শাসক দলের বহু নির্বোধের প্রশ্ন; আমেরিকা আমাদের রাজনীতির গণতন্ত্র নিয়ে এত চিন্তিত কেন? এই সমীকরণে পারমানবিক নিরাপত্তা আছে না? তিনদিক ঘিরে থাকা পাশের রাষ্ট্র ভারত পারমাণবিক হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের উপর নিয়ন্ত্রণ আরো বৃদ্ধি করবে কোন সন্দেহ নেই। তারা কখনই চায় না যে বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষী কোন সরকার আসুক, তবে এখন থেকে সেটা আর শুধু চাওয়াতে থাকবে না, তারা জোর করে হলেও বাংলাদেশে ভারতের তাবেদার সরকার রাখার চেষ্টা করবে।
প্রশ্ন হল আমরা তাহলে কি পারমাণবিক শক্তি কখনই ব্যবহার করব না? অবশ্যই করব তবে যথেষ্ট কোমর শক্ত হলে। লাইট ওয়েট বডি নিয়ে হেভিওয়েট তুলতে যাওয়া বোকামী। নিজেদের সামর্থ না হলে কি হতে পারে সেটা পারমাণবিক জ্বালানী ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকা থেকে প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার অভিজ্ঞতাতেই স্পষ্ট। প্রথম আলো লিখছে “কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেছেন, গাজীপুরের সফিপুর বাজার এলাকায় একটি গাড়িতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে সেটি এক ঘণ্টার চেষ্টায় মেরামত করা হয়। পরে জানতে পারেন, টাঙ্গাইলে গিয়েও সেই গাড়িটি আবার বিকল হয়। সেখান থেকে মেরামত করে গাড়িগুলো রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।”
পাকি’স্তান-আমেরিকা সম্পর্ক নিয়ে অনেক সমালোচনা। এর সাথে নানা আবোল তাবোল বিষয় জুড়ে মানুষ জট পাকায়। পাকি’স্তানর আমেরিকার তাবেদারী সম্পর্কের প্রধান এবং একমাত্র কারণ পাকিস্তানের মত দুর্বল একটি রাষ্ট্রের পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জন। এই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রের পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা হাতছাড়া করতে চায় না। এর ফল হল আন্তর্জিতিকভাবে পাকিস্তানের আমেরিকার তাবেদারী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া এবং নিজের দেশের জনগণের সামরিক বাহিনীর গোলামে পরিণত হওয়া। উভয় নিয়ন্ত্রণের উপলক্ষ্য হল পারমিনবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। যদিও আমরা পাকি’স্তানের মত পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী নই কিন্তু পারমিণবিক চুল্লি বা জ্বালানীর নিরাপত্তাও একটি বিশাল গোলামীর অজুহাত হবে।
মূল বিষয় হল রাষ্ট্রের সামর্থ্য। আমাদের পারমাণবিক কেন্দ্র রাশিয়া বানালেও পরিচালনায় থাকবে ভারতের হাত। ভারত-আমেরিকা নেক্সাস নিয়ন্ত্রন করবে আমাদের রাজনীতি। এই পরিচালনার ব্যায়ভার আমাদেরই টানতে হবে। সামান্য বিদ্যুতের জন্য আমরা তৈরী করলাম বিশাল নিরাপত্তা বোঝা যার ফলে বাড়বে কর, নিয়ন্ত্রিত হবে স্বাধীনতা এবং ভুগবে মানুষ। সত্যিকারের জীবন নিয়ে হতাশ মানুষ ফেসবুকে পারমাণবিক কেন্দ্রের ছবিতে লাইক দেবে, কমেন্ট করবে, শেয়ার করবে এই বলে যে দেখ আমরা কত উন্নত, আমাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে।